1. info@dainikashardigonto.com : দৈনিক আশার দিগন্ত : দৈনিক আশার দিগন্ত
  2. info@www.dainikashardigonto.com : দৈনিক আশার দিগন্ত :
রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ০৮:০৪ অপরাহ্ন

কালের সাক্ষী হয়ে শির উঁচু করে দন্ডায়মান

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মার্চ, ২০২৪
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে

নুরী,কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ

কক্সবাজার উপকূলীয় সাংবাদিক ফোরাম এর সাধারণ সম্পাদক, সভাপতি মহেশখালী অনলাইন প্রেসক্লাব এবংপ্রতিনিধি, দৈনিক সংবাদ সারাবেলা, পূর্বকোণ, সিপ্লাস টিভি ও বিজয় টিভির প্রতিনিধির মোহাম্মদ হোবাইব এর আবেগঘন কথা,মার পিছনে কালের সাক্ষী হয়ে শির উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছেন অর্ধশত জমিদার বাড়ির কিছু ধ্বংস্তুফ। আর কারও বাড়ী ঘর এমন ধ্বংসযজ্ঞ প্রতিশোধের নেশায় কেউ মেতে না ওঠে এমনটি চাই প্রিয় এলাকাবাসী।বুঝতে হবে নিরবতা এটি একটি প্রতিবাদ, প্রতিশোধের নেশা মগ্ম না হয়ে এলাকার সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে ঐক্যবদ্ধ হোন নাড়ির টানে বাড়ী ফেরা সময়ের ব্যাপার!অপরদিকে প্রচুর ব্যস্ততা যাচ্ছে আমার তার পরেও ভাবছিলাম কি লিখব! জন্মভূমি বলে কথা তাই লিখতে হবে। নিরবতারও ভাষা আছে, যা সবাই উপলব্ধি করতে পারে না মায়ের মৃত্যুর পর কিছু ভাল লাগেনা তাই ফিরে গেলাম শৈশবের মায়া মাখা স্মৃতির বেলায়। যে গ্রামের আলো-বাতাস নিয়ে আমার বেড়ে উঠা। এই আমাদের গ্রামে ও আমাদের পুকুর পাড়ে গভীর ধ্যানে মগ্ন হতাম আমি!আমাদের বাপ-দাদা -ভাইরা তৎকালীন জমিদার ছিলেন বিদায় প্রায় ৬ খানি জমি খনন করে বড় পুকুরটি করে ছিলেন। আমাদের বিশাল আত্মীয় স্বজনদের চতুর্থমূখী বাড়ির মধ্যখানে এই বড় পুকুরটি। যা আদিকালে মনগাজী মসজিদের পুকুর নামে পরিচিত ছিল। মূলবাড়ি থেকে আত্মীয়দের কয়েকটি বাড়ি পেরিয়ে বিশাল একটি পুকুর। উক্ত পুকুরের চার পাশে বিশাল ভিটায় সুপারী বাগান, নারকেল গাছ, কাঁঠাল গাছ, বাঁশ বাগান, পুকুরকে ঘিরে মাছরাঙ্গা পাখির উড়াউড়ি, বাঁশ বাগান জুড়ে পাখিদের কিচির-মিচির কোলাহল- এমন এক নয়নাভিরাম খোলামেলা পরিবেশে আমাদের শৈশবের আড্ডা জমত। আত্মীয় স্বজনদের দেখা মিলত। তা এখন শুধু স্মৃতি।বলছিলাম গত ১৭ বছর আগে কলমের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে মহেশখালীর প্রতিটি প্রান্তরে প্রতিটি ঘরে ঘরে শান্তির বার্তা পৌঁছে দিতে ২০০৪ সালের নাগাদ এই মায়াবী পুকুর পাড়ে বসে রিপোর্টি তৈরি করে যে যাত্রা শুরু করেছিলাম তা অদ্যবদি চলমান। এই যাত্রা পথে সৎ নির্ভরযোগ্য সংবাদ জনসাধারণের কাছে পৌছেঁ দেওয়া ছিল আমার মূল লক্ষ্য।সাংবাদিকতাকে কাজে লাগিয়ে দস্যুদের আলোর পথে ফেরাতে কাজ করায় হয়তো আগের চেয়ে শান্তি ফিরেছে প্রিয় এলাকায়। এটি সকলকে শিকার করতে হবে। আর এই পুকুর পাড়ের উত্তরে প্রান্তে আমাদের ছোট্ট একটি গাছ বাগান, ধান চাষের জমি ও পাশে ফুফির কাছারি ঘরটিতে গভীর ধ্যানে মগ্ন হতাম আমি! রিপোর্টিং লিখতাম। যোগব্যায়াম করতাম। পাঠ্যবই পড়তাম। দীর্ঘদিন এই ঘরে পুকুর পাড়ে আমি একাই উপভোগ করতাম আমার জীবনকে। যখন অবসর পেতাম বার বার ছুটে যেতেম পুকুর পাড়ে। পুকুর পারটি যেন পরম মমতায় আমার সব পাগলামো সয়ে যেতো। অনেকেই যদিও পাগল রিপোর্টার বলে তখন ভেংচি কাটতো, এই পুকুর পাড়টি বরং আমার সব পাগলামোকে উৎসাহ দিয়ে গেছে নিরবে। পুকুর পাড়ের পাশে ছিল আমার প্রিয় মানুষটির বাড়ী। এখন তাদের বাড়ি ঘর নাই আমাদের মত।এখান থেকে আমার এতটুকু পথ চলা। এই পুকুর পাড়ের সাথে আমার অনেক সুখ স্মৃতি, দুঃখ স্মৃতি জড়িয়ে আছে। এখন এই পুকুর পাড় অযত্ন অবহেলায় ভেঙে খান্ খান্ হয়ে ভরাট হয়ে ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। বাপ-দাদার জায়গা-বিঠার কথা নাই বললাম। তবে পুকুরটা বেহাল অবস্থা কেন জানতে বড্ড ইচ্ছা করে মাঝে মধ্যে! তার পরে বরফের মত ভূমিকা পালন করি।

তবে কথায় আছে অন্ধকার ভেদ করে আলো আসবেই। কাচারি ঘরটি নেই! আত্মীয়স্বজনদের কেউ শৈশবের স্মৃতি বিজড়িত ওই পুকুরে যায় না আর। তবে কেন? এর সুদুর উত্তর আমার কাছে জানা নাই। অনেকটা পরিত্যক্ত। কিছু অংশ ভেঙ্গেও গেছে। মায়ের লাশ নিয়ে আমি সন্তান হয়ে ওই এলাকায় পা রেখে আমি সে সুবাদে পেশাগত দায়িত্ব পালনের খাতিরে অনেক বছর পর পুকুর পাড়ের সামনে গিয়ে দু’ দন্ড স্বস্তি নিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম; দু’ ফোঁটা অশ্রুও গড়িয়ে পড়লো অজান্তে। আর একটি দীর্ঘশ্বাস মিশে গেলো বিশুদ্ধ বাতাসে।কিচির-মিচির করে ডেকে উঠল কিছু পাখি। জীবনের প্রয়োজনে আবারও ধ্যান ভেঙ্গে আমার ছুটে চলা সংবাদের খোঁজে; দু’পায়ে সবেগে হেঁটে চলা। স্বশব্দে ছন্দ তুলেছে কী-বোর্ড। হয়তো আবারও এমন শান্তির পুকুর পাড়ে এবং কূঁড়েঘরে কিংবা কাচারিতে ধ্যানে হারিয়ে যাবো একদিন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
𝐂𝐫𝐚𝐟𝐭𝐞𝐝 𝐰𝐢𝐭𝐡 𝐛𝐲: 𝐘𝐄𝐋𝐋𝐎𝐖 𝐇𝐎𝐒𝐓